রবিবার, ২৯ মার্চ, ২০২০

Al-quran 
দেখুন,,,,,,,

৩. নামাযে কব্জির উপর হাত বাঁধা এবং নাভীর নিচে রাখা সুন্নাত

৩. নামাযে কব্জির উপর হাত বাঁধা এবং নাভীর নিচে রাখা সুন্নাত


নামাযে বাম হাতের কব্জির উপর ডান হাত রাখা এবং দুই আঙ্গুল দ্বারা চেপে ধরা সুন্নাত। একাধিক সহীহ হাদীস দ্বারা এ আমল প্রমাণিত। চার মাযহাবের ইমাম এবং জমহুর আলেমগণ এটাকেই সুন্নাত পদ্ধতি আখ্যা দিয়েছেন।

প্রমাণ :

১. হযরত সাহল ইবনে সা‘দ (রা) বলেন, মানুষকে এই আদেশ দেয়া হয়েছে যে, তারা যেন নামাযে ডান হাত বাম হাতের বাহুর উপর রাখে। (বুখারী শরীফ হাদীস নং ৭৪০)

এই হাদীসটি সম্পর্কে বুখারী শরীফের বিখ্যাত ভাষ্যকার হাফেজ ইবনে হাজার আসকালানী (র) বলেন, বাহুর কোনো জায়গায় রাখতেন সেটা এই হাদীসে অস্পষ্ট।

আবূ দাঊদ ও নাসাঈ বর্ণিত ওয়াইল (রা)-এর হাদীসে বলা হয়েছে, অতঃপর তিনি তার ডান হাত বাম হাতের তালুর পিঠ, কব্জি ও বাহুর উপর রাখলেন। ইবনে খুযায়মা (র) প্রমুখ এটিকে সহীহ বলেছেন। (ফাতহুল বারী : খন্ড ২, পৃষ্ঠা ২৭৫)

আর আল্লামা শাওকানী রহ. নায়লুল আওতার গ্রন্থে বলেছেন : হাদীস শরীফে যে বলা হয়েছে, ‘বাম হাতের বাহুর উপর” বাহুর কোন্ জায়গা তা এখানে অস্পষ্ট রাখা হয়েছে।

মুসনাদে আহমাদ ও আবূ দাঊদ শরীফে বর্ণিত হাদীসে তার ব্যাখ্যা দেয়া হয়েছে আর তা হলো তিনি তার ডান হাত বাম হাতের পিঠ কব্জি ও বাহুর উপরে রেখেছেন। তাবারানী রহ. এর বর্ণনায় এসেছে, তিনি নামাযে তার ডান হাত বাম হাতের পিঠের উপর কব্জির কাছে রেখেছেন। (খন্ড ২, পৃষ্ঠা ১৮৭)

২. হযরত হুলব আততাঈ (রা) বলেন, রাসূল (সা) আমাদের ইমাম হতেন। তিনি ডান হাত দ্বারা বাম হাত চেপে ধরতেন। (তিরমিযী শরীফ : হাদীস নং ২৫২)

এ বিষয়ে আরো যত সহীহ হাদীস বর্ণিত আছে সবগুলোর মধ্যে সমন্বয় করে চার মাযহাবের আলেমগণ সেই পদ্ধতিকেই অবলম্বন করেছেন, যেভাবে হানাফী মাযহাবের অনুসারীগণ আমল করে থাকেন। একেই বলে হাদীসের অনুসরণ। এরাই প্রকৃত হাদীস অনুসারী। আর যারা একটি হাদীস নিয়ে সবগুলো উপেক্ষা করে তারা মূলত নামের আহলে হাদীস। প্রকৃত হাদীস অনুসারী নয়।

* নাভীর নিচে হাত রাখা সুন্নাত
উল্লিখিত পদ্ধতি অনুযায়ী হাত বাধার পর নাভীর নিচে হাত রাখা সুন্নাত। তবে ইমাম শাফয়ী রহ. বুকের নিচে রাখার কথা বলেছেন। কিন্তু বুকের উপর হাত বাধার সুন্নত হওয়ার কথা কেউ বলেননি। বুকের উপর হাত বাঁধার ব্যাপারে কোনো সহীহ হাদীস নেই।

প্রমাণ :

১. হযরত ওয়াইল ইবনে হুজর (রা) বলেন, আমি রাসূল (সা) কে নামাযে ডান হাত বাম হাতের উপর রেখে নাভীর নিচে রাখতে দেখেছি। (মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বা, হাদীস নং ৩৯৫৯)

২. হযরত আলী (রা) বলেন, নামাযের সময় সুন্নত হলো হাত তালুর উপর রেখে নাভীর নিচে রাখা। (আবূ দাঊদ শরীফ, হাদীস নং ৭৫৬)

৩. হযরত আবূ হুরায়রা (রা) বলেন, হাতের তালু অপর তালুর উপর রেখে নাভীর নিচে রাখতে হবে। (আবূ দাঊদ শরীফ, হাদীস নং ৭৫৮) 

২. তাকবীরে তাহরীমার সময় কান পর্যন্ত হাত উঠানো

২. তাকবীরে তাহরীমার সময় কান পর্যন্ত হাত উঠানো
তাকবীরে তাহরীমার সময় উভয় হাত কান পর্য উঠানো সুন্নত। অর্থাৎ উভয় হাতের বৃদ্ধাঙ্গুলির মাথা কানের লতি পর্যন্ত  উঠানো। (মুসলিম শরীফ ১/১৬৮ ত্বা ৩৯১)

হযরত মালেক ইবনে হুয়াইরিস (রা) থেকে বর্ণিত যে, রাসূল (সা) যখন তাকবীর বলতেন তখন দুই কান পর্যন্ত হাত উঠাতেন। (মুসলিম)

মহিলাগণ তাদের হাত বুক বা কাধ পর্যন্ত উঠাবে এবং কাপড়ের ভেতর থেকে হাত বাহিরে রাখবে না। (তিরমিযী ১/২২২ ত্বা ১১৭৩ সহীহ) 

১. নামাযে দাঁড়ানো অবস্থায় দুই পায়ের মাঝখানে ফাঁকা রাখা

১. নামাযে দাঁড়ানো অবস্থায় দুই পায়ের মাঝখানে ফাঁকা রাখা

ইমাম, মুক্তাদী কিংবা একা নামায আদায়কারী প্রত্যেকেই নিজ নিজ শরীরের গঠন অনুযায়ী দুই পায়ের মাঝখানে এতটুকু ফাা রেখে দাঁড়াবে যেন পায়ের আঙ্গুলগুলো কেবলামুখী হয়ে থাকে এবং দাঁড়ানো, রুকু ও সেজদার সময় ব্যবধান বৃদ্ধি করার বা সংকোচ করার কোনো প্রয়োজন না হয়। উভয় পায়ের আঙ্গুলসমূহ কিবলামুখী করে স্বাভাবিকভাবে দাঁড়াবে।

হযরত আবূ হুরায়রা রাসূল (সা.) বলেন, যখন তোমারা নামাযে দাঁড়াবে (ইচ্ছা করবে) তখন ভালোভাবে অযু করবে। অতঃপর পরিপূর্ণরূপে কেবলামুখী হবে এবং তাকবীর বলবে। (বুখারী শরীফ ২/৯২৪, হা.৬২৫১, তিরমিযী শরীফ ১/৬৬  ত্বা. ৩০৪ সহীহ)

বিজ্ঞ ইমামগণের গবেষণা মতে পুরুষের উভয় পায়ের মাঝে নিম্নে চার আঙ্গুল ঊর্ধ্বে এক বিঘত পরিমাণ ফাকা রাখা হবে স্বাভাবিক পরিমাণ।

আর মহিলাগণ উভয় পায়ের গোড়ালি মিলিয়ে রাখবে। হযরত আব্দুল্লহ্ ইবনে আব্বাস (রা) কে মহিলাদের নামায সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন : সংকোচিত ও (শরীরের অঙ্গ) মিলিয়ে নামায পড়বে। (মুসান্নাফে আবী শায়বা : ১/২৭০, হা. ২৭৯৪ সহীহ) 

নামাযে ওয়াজিব

নামাযে ওয়াজিব....

নিম্নে নামাযের ওয়াজিব সমুহ বর্ননা করা হলো।
১। ফরজ নামাযের প্রথম দুই রাকাতে এবং বিতির,নফল ও সুন্নত নামাযের সব রাকাতে সুরা ফাতেহা পড়া।
২। ফরজ নামাযের প্রথম দুই রাকাতে এবং বিতির,নফল ও সুন্নত নামাযের সব রাকাতে সুবা ফাতেহার পর অন্য যেই কোন একটি বড় আয়াত বা ছোট তিন আয়াত কিংবা যেই কোন একটি পুর্নাঙ্গ সুরা পড়া।
৩। নামাযের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা।
৪। নামাযে তারা হুরা না করা অর্থাৎ ধীরে সুসে’ নামায আদায় করা।
৫। দ্বিতীয় রাকাতের পর প্রথম বৈঠক করা এবং তাশাহুদ পড়া।
৬। শেষ বৈঠকে“আস্‌সলামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ”বলে নামায শেষ করা।
৭। বিতির নামাযে দোয়া কুনুত পড়া।
৮। প্রত্যেক ঈদের নামাযে অতিরিক্ত ছয় তাকবীর বলা।
৯। যে সব নামাযে উচ্চ স্বরে কেরাত পড়ার নিয়ম সেসব নামাযে উচ্চ স্বরে কেরাত পড়া এবং যেই সব নামাযে নিরবে কেরাত পড়ার নিয়ত সেসব নামাযে নিরবে কেরাত পড়া।
১০।সেজদার সময় দুই হাত এবং দুই হাটু জমিনে রাখা।

১১।রুকু এবং সেজদায় কমপক্ষে এক বার করে তসবীহ পড়া ওয়াজিব।

নামাযে ১৪টি ফরয

নামাযে ১৪টি ফরয
নামাযে মোট চৌদ্দটি ফরযের মধ্যে নামায শুরুর আগেই ৭টি ফরয, আর নামাযের ভেতরে ৭টি ফরয ।
(ক) নামাযের বাইরের ৭টি ফরয :
শরীর পাক, পরনের কাপড় পাক, নামায পড়ার স্থান পাক, সতর ঢাকা, কিবলা রোখ হওয়া, ওয়াক্ত চিনে নামায পড়া ও নিয়াত করা।
(খ) নামাযের ভিতরের ৭টি ফরয :
তাকবীর তাহরীমা, দাঁড়ানো, কিরাআত, রুকু, সিজদা, শেষ বসা ও মুসল্লীর ব্যক্তিগত কাজের মাধ্যমে নামায শেষ করা ।এক্ষেত্রে সালাম সর্বোওম কাজ |